পুরুষদের যেসব সমস্যার কারণে দাম্পত্য জীবনে অস্বস্তি তৈরি হয়, তার মধ্যে ইমপোটেন্সি বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অন্যতম। অনেকেই লজ্জার কারণে চুপচাপ সহ্য করেন, কিন্তু এটা একটা সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা।
ইমপোটেন্সি কী?
যখন একজন পুরুষ যৌন উত্তেজনা অনুভব করেন, কিন্তু লিঙ্গ শক্ত বা দৃঢ় হয় না, বা যৌনক্রিয়ার সময় শক্তভাব ধরে রাখতে পারেন না—তখন তাকে ইমপোটেন্সি বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বলা হয়।
কেন হয়? (কারণসমূহ)
ইমপোটেন্সির কারণ অনেকগুলো হতে পারে—
শারীরিক কারণ
- রক্ত চলাচলের সমস্যা
- ডায়াবেটিস
- উচ্চ রক্তচাপ
- স্থূলতা
- হৃদরোগ
- হরমোনের সমস্যা (টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া)
- স্নায়ুর সমস্যা
- দীর্ঘদিন ধূমপান / অ্যালকোহল
মানসিক কারণ
- স্ট্রেস
- অতিরিক্ত টেনশন
- সম্পর্কের সমস্যা
- কর্মক্ষেত্র বা পরিবারের চাপ
- আত্মবিশ্বাসের অভাব
- পারফরম্যান্স অ্যানজাইটি
লক্ষণগুলো কী?
- লিঙ্গ শক্ত না হওয়া
- শক্ত হলেও ধরে না থাকা
- যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া
- যৌনসম্পর্কে ব্যর্থতার ভয়
- দাম্পত্য সম্পর্কে অস্বস্তি বা মানসিক চাপ
সমস্যা কি গুরুতর?
ইমপোটেন্সি প্রাণঘাতী না হলেও—
- দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি করে
- আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়
- ডিপ্রেশন বা টেনশনের কারণ হয়
- ভবিষ্যতে ফার্টিলিটিকেও প্রভাবিত করতে পারে
তাই দেরি না করে চিকিৎসা নেয়াই ভালো।
কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
- ব্লাড সুগার
- হরমোন টেস্ট (টেস্টোস্টেরন)
- রক্তচাপ
- শারীরিক পরীক্ষা
- প্রয়োজনে পাইভেট ডপলার টেস্ট
চিকিৎসা (Medical + Lifestyle + Homeopathic)
ইমপোটেন্সি পুরোপুরি চিকিৎসাযোগ্য।
লাইফস্টাইল পরিবর্তন
- ধূমপান বন্ধ
- ওজন কমানো
- নিয়মিত ব্যায়াম
- পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক চাপ কমানো
অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা
- PDE5 ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ
- হরমোন থেরাপি
- ভ্যাকুয়াম পাম্প / ইনজেকশন (কিছু ক্ষেত্রে)
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
রোগীর মানসিক–শারীরিক লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ নির্ধারণ করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, ভয়, অতীত ব্যর্থতা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স—এই সবকিছু একসাথে সমাধান হতে শুরু করে।
মানসিক কাউন্সেলিং
অনেক সময় মাত্র ১–২টি কাউন্সেলিং সেশনেই ভালো অগ্রগতি দেখা যায়।
কখন ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যাবেন?
- ২–৩ মাস ধরে যৌন সমস্যা থাকলে
- লিঙ্গ শক্ত না হলে
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
- বয়স কম, কিন্তু ইরেকশন দুর্বল
- দাম্পত্য জীবনে সমস্যা তৈরি হলে
শেষ কথা
ইমপোটেন্সি লজ্জার কিছু না, বরং চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুতই ঠিক করা যায়। সঠিক কারণ জানা এবং প্রফেশনাল চিকিৎসা নেওয়াই হলো সমাধানের প্রথম ধাপ।

