পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব বা টেস্টিকুলার ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ভারিকোসেল। অনেকেই বিষয়টা বুঝতে দেরি করেন, আবার অনেকে লজ্জার কারণে চিকিৎসা নেন না। তাই একটু পরিষ্কারভাবে জেনে রাখা জরুরি।
ভারিকোসেল কী?
স্ক্রোটামে থাকা শিরাগুলো (veins) যখন অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায় বা ফুলে ওঠে— ঠিক যেমন পায়ে ভ্যারিকোজ ভেইন হয়— তখনই তাকে ভারিকোসেল বলা হয়। সাধারণত বাম পাশে বেশি দেখা যায়।
কেন হয়? (সম্ভাব্য কারণ)
- শিরার ভাল্ভ ঠিকমতো কাজ না করা
- রক্ত সঞ্চালনের বাধা
- জেনেটিক কারণ
- বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা ভারী জিনিস তোলা
- কৈশোরে হরমোনাল পরিবর্তন
লক্ষণসমূহ
সবসময় লক্ষণ থাকে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়—
- টেস্টিসে টান টান ব্যথা
- ভারী ভাব অনুভব
- স্ক্রোটামে ফুলে ওঠা বা মোচড়ানো শিরা
- দাঁড়ালে বা ব্যায়ামের পর ব্যথা বাড়া
- টেস্টিস ছোট হয়ে যাওয়া (কিছু ক্ষেত্রে)
- সন্তান ধারণে সমস্যা
ভারিকোসেল কি বিপজ্জনক?
প্রাণঘাতী নয়। তবে চিকিৎসা না নিলে হতে পারে—
- শুক্রাণু কমে যাওয়া
- শুক্রাণুর গতি কমে যাওয়া
- ফার্টিলিটির সমস্যা
- স্থায়ী অস্বস্তি
- টেস্টিস সাইজ কমে যাওয়া
কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
- শারীরিক পরীক্ষা
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি
- ডপলার স্টাডি
চিকিৎসা
ভারিকোসেলের চিকিৎসা লক্ষণ ও সমস্যার ওপর নির্ভর করে।
- জীবনযাপনের পরিবর্তন (ভারী কাজ কমানো, জকস্ট্র্যাপ)
- ব্যথা কমানোর ওষুধ
- হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা (লক্ষণ অনুযায়ী)
- সার্জারি: প্রয়োজন হলে Varicocelectomy
সন্তান নেওয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসককে দেখাবেন?
- টানা ব্যথা
- টেস্টিস ছোট মনে হওয়া
- বাচ্চা নিতে সমস্যা
- স্ক্রোটামে অস্বস্তি বা সন্দেহজনক ফোলা
শেষ কথা
ভারিকোসেল খুবই কমন সমস্যা—চিকিৎসা নিলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা পুরোপুরি সম্ভব। লজ্জা বা ভয় না পেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যত দ্রুত চিকিৎসা, তত ভালো ফল।

